এইকাল নিউজ: আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। তার ঠিক আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে আইপিএস অফিসার মনোজ ভার্মাকে সরিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মনোজকে সরিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হল আইপিএস অফিসার সুপ্রতিম সরকারকে। অতীতে বামফ্রন্ট জমানায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আস্থাভাজন আইপিএস অফিসার ছিলেন সুপ্রতিম। বর্তমান সরকারের আমলে আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের সঙ্গে তাঁর আস্থার সম্পর্ক বলে সরকারি মহলে আলোচনা রয়েছে। বড় কথা হল, অনেক দিন পর কলকাতার নগরপাল হলেন একজন বাঙালি পুলিশ কর্তা। মনোজ ভার্মাকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরালেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল। নতুন ডিরেক্টর সিকিউরিটি হলেন মনোজ ভার্মা। এই পদে ছিলেন সিনিয়র আইপিএস অফিসার পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকে রাজ্য পুলিশের অস্থায়ী ডিজি পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। আবার সুপ্রতিম সরকার ছিলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ। নতুন এডিজি আইনশৃঙ্খলা হলেন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল। কলকাতার পুলিশের কমিশনার ছিলেন বিনীত। আরজি কর কাণ্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিবাদের চাপে তাঁকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশে যে রদবদল হতে পারে, সে সম্ভাবনার কথা আগেই শোনা যাচ্ছিল। ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আই প্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। ওই মামলায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে মনোজ ভার্মা ও রাজ্য পুলিশের ডিজির পদ থেকে রাজীব কুমারকে সাসপেন্ড করার আবেদন জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর।গত ৮ জানুয়ারি আই প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি যখন তল্লাশি চালায়, তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তদন্তে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে ইডি। তবে সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস সিকিউরিটি পান, তাই তাঁর সঙ্গে দুই সিনিয়র পুলিশ কর্তা যেতেই পারেন।এখন দেখার ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে মামলা কোন পথে এগোয়।কিন্তু ঘটনা হল, সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগেই ৩১ জানুয়ারি ডিজি পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রাজীব কুমার। পাশাপাশি এবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকেও মনোজ ভার্মাকে সরিয়ে দেওয়া হল। অর্থাৎ এরপর সুপ্রিম কোর্ট কোনও কঠোর নির্দেশ দিলে তা রাজ্য পুলিশের ডিজি বা কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে হবে না। তা হবে দুই সিনিয়র আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে। যাঁদের মধ্যে একজন আবার অবসরপ্রাপ্ত।এদিকে, এডিজি আইন-শৃঙ্খলা পদে নিয়ে আসা হচ্ছে বিনীত গোয়েলকে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। এডিজি এসটিএফ পদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জাভেদ শামিমকে। ইতিমধ্যে এই এসটিএফ-কে ঢেলে সাজানো হয়েছে।হাওড়া থেকে ব্যারাকপুরের সিপি হলেন প্রবীণ ত্রিপাঠী। ব্যারাকপুর থেকে বিধাননগরের সিপি হলেন মুরলীধর। বর্ধমান রেঞ্জের আইজি হলেন অমিত পি জাভালগি। মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি মুকেশ। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার হলেন আকাশ মাঘারিয়া। চন্দননগরের সিপি হলেন কোটেশ্বর রাও ।

